নিজস্ব সংবাদদাতা
শহরের চাষাঢ়ায় ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ রেস্টুরেন্টে গুলিবিদ্ধ ম্যানেজার শফিউল আলম কাজল (৫০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহতের ঘটনায় মো. আজাহার তালুকদার ও তার ছেলে আরিফ তালুকদার মোহনের বিরুদ্ধে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ ফেব্রæয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালতে আসামীদের হাজির করে ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সাথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে ৩০২ ও ৩৪ দ্বারা সংযুক্ত করে হত্যা মামলার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান আসাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।নিহত শফিউল আলম কাজল সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের শাহ আলমের ছেলে।তিনি বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় বসবাস করতেন। বাদিপক্ষের আইনজীবী এড. অঞ্জন দাস বলেন, পুলিশ গ্রেফতারকৃত বাপ-বেটার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যা মামলার আবেদন করেছেন। তদন্ত শেষে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, সোমবার (৬ ফেব্রয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ রেস্টুরেন্টে গুলিবিদ্ধ ম্যানেজার মারা যান। এরআগে রোববার (৫ ফেব্রæয়ারি)দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাষাঢ়ার আঙ্গুরা প্লাজায় ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’ রেস্টুরেন্টে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়েন ভবন মালিক আজাহার তালুকদার। এতে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার শফিউর রহমান কাজল ও কর্মচারী জনি গুলিবিদ্ধ হন। এরমধ্যে কাজলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ আজাহার তালুকদার ও তার ছেলে আরিফ তালুকদার মোহনকে ২টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এঘটনায় রাতেই রেস্টুরেন্টের মালিক শুক্কুর আলী বাদি হয়ে ভবন মালিক আজাহার তালুকদার ও তার ছেলে আরিফ তালুকদার মোহনকে আসামী সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের দায়ের করেন। ‘সুলতান ভাই কাচ্চি’র মালিক শুক্কুর জানান, ভবন মালিক আজহার তালুকদার এসে বলেন, পানির বিল বাবদ ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। আমরা ১০ লাখ টাকা ঋণ হয়ে গেছি। আমি বললাম, ১০ টাকা কেনো দিবো? আমি তো আপনার কাছ থেকে দোকান নেইনি। আমার বাড়িওয়ালা আপনার ভাই আজিজুল হক। তার কাছ থেকে আমি দোকান ভাড়া নিয়েছি। আর আমি তো পানির বিল প্রতিমাসেই দিয়ে দেই। পানিসহ আমার ৮০ হাজার টাকা ভাড়া। পানির জন্য ৫ হাজার আর দোকান ভাড়া ৭৫ হাজার। এসব নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আজাহার আমাকে খারাপ ভাষায় গালমন্দ করে। পরে আমিও গালি দেই। এরপর সে বলে দাঁড়া আসতাছি। একথা বলে সে চলে যায়। পরক্ষণে এসে সে গুলি করে। এতে আমার ম্যানেজারসহ ২ জন গুলিদ্ধি হয়।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।